জাভা ল্যাংগুয়েজের উৎপত্তি ও ইতিহাস
টিউন-২ঃ আগের টিউন থেকে আমরা জানতে পারলাম যে জাভা একটি অবজেক্ট ওরিয়েন্টড প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ এবং এর জনক হলেন জেমস গসলিং ।
এবার অনেকের জানতে ইচ্ছে করে জাভার প্রোগ্রামিং এর উৎপত্তি কিভাবে হল আর জাভা প্রোগ্রামিং উৎপত্তির ইতিহাস ই বা কি?????
আসলে জাভা একটি কফির নাম । এই শব্দ টার রয়েছে একাধিক অর্থ ( সক্রিয়, আনন্দদায়ক, আধুনিক,বন্ধুত্বপূর্ণ) যার একটি অর্থ হচ্ছে আনন্দদায়ক , তাহলে চলো জাভার ইতিহাস জানার আগে আমরা আনন্দের সাথে একটা গল্প পড়ি ......
এক দেশে এক রাজা ছিল । সে নতুন নতুন জাদু দেখতে পছন্দ করত । রাজাকে খুশি করতে পারলে রাজা তাকে নিজের দরবারে বড় কোনো পদ দিয়ে দিত।
ডেনিশ রিচি রাজ দরবারে একজন অনেক বড় পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি ।
তিনিও এক সময় রাজা কে জাদু দেখাতেন।
তারপর একটা সময় এলো যখন ডেনিশ এর দেখানো জাদুগুলো( সি) কে আরো উন্নত করে জার্ন স্টড়ৌসট্রপ আরো শক্তিশালী ও মজার জাদু (সি প্লাস প্লাস) তৈরি করেন । কিন্তু একটা সময় এই ডেনিশ রিচি আর জার্ন স্টড়ৌস্ট্রপ এদের জাদু দেখতে দেখতে রাজা প্রায় হাঁপিয়ে উঠলো ।
এরেই মাঝে বেশ কিছু বছর পার হয়ে গেল । রাজা যখন নতুন জাদু দেখার আশায় অধীর অপেক্ষায় তখনই শোনা গেলো তার রাজ্রে কোনো এক মনীষী চমৎকার এক ইন্দ্রজাল ( ইন্টারনেট) তৈরি করেছে।
যা দিয়ে রাজা মশাই তার ইচ্ছে মতো যে কোনো দেশের যে কোনো প্রান্তের যে কোনো লোকের জাদু দেখতে পারবেন । (রাজা তো মহা খুশি)
কিন্তু এতেও দেখা দিল একটা বড় সমস্যা । মনীষীর এই ইন্দ্রজাল কাজ করার জন্যে চাই এমন এক মন্ত্রের ভাষা যা সবাই বুঝবে , সব পরিস্থতিতেই চলবে।
তাই রাজা ঘোষনা দিলেন , যে এই ইন্দ্রজালের জন্যে জাদুকারী ভাষা(জাভা) টা আবিষ্কার করতে পারবে তার সাথে রাজা তার সুন্দরী মেয়ে সোফিয়ার বিয়ে দিবে।
এই ঘোষনার পর সবাই জাদুকারী ভাষা টা আবিষ্কারের নেশায় মেতে উঠলো ।
কিন্তু কেউ আবিষ্কার করতে পারলো না । হঠাৎ রাজা জানতে পারলো জেমস গসলিং নামের এক তরুন যুবক জাদুকারী ভাষা(জাভা) টা আবিষ্কার করে ফেলল কিন্তু সেই সুন্দরী রাজকন্যা সোফিয়ার সাথে জেমস এর বিয়ে হল না ......।
গল্পতো অনেক হল চলো এবার জাভার বাস্তব ইতিহাস টা দেখি........................
মানুষ আর কম্পিউটারের মাঝে সম্পর্ক সহজ থেকে সহজতর করার লক্ষ্যে কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ রা একের পর এক প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ আবিষ্কার করেন যেমন-( এডা , আসেম্বেলি ,সি , সি প্লাস প্লাস ইত্যাদি) ।
কিন্তু এই প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ গুলো প্লাটফরম নির্ভরশীল হওয়ায় প্রোগ্রামার গন এক প্লাটফরমে কোড লিখে তা অন্য প্লাটফরমে চালাতে পারতো না । যেমন উইন্ডোজে প্রোগ্রাম লিখে সেই প্রোগ্রাম ম্যাক এ সিস্টমে চালানো যেত না । তাই আলেদা আলেদা প্লাটফরমে প্রোগ্রাম লিখার জন্যে আলেদা আলেদা কম্পাইলার এর প্রয়োজন হয় যা অনেক ব্যায়বহুল। আর প্রোগ্রামিং এর এই সমস্যা কিভাবে দূর করা যায় প্রোগ্রামার গণ সেই চিন্তা করতে শুরু করলেন।
এই উদ্দেশ্যে , ১৯৯১ সালে হার্ডওয়্যার কম্পানি সান মাইক্রোসিস্টেমের এক দল বিশেষজ্ঞ (James Gosling ,Mike Sheridan, Patrick Naughton) প্রোগ্রামিং এর সমস্যা দূর করার জন্যে একটি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজের প্রোজেক্ট শুরু করেন ।
প্রোজেক্ট টির নাম দেওয়া হয় গ্রিন প্রোজেক্ট এবং প্রোজেক্ট টি নেতৃত্ব দেন জেমস গসলিং । জেমস গসলিং এর জানালার ধারে একটি ওক গাছ ছিল আর তিনি তার ঐ ওক গাছের নামনুসারে তাদের তৈরী ল্যাংগুয়েজে নাম দেন ওক । আর এই প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজে তাদের স্লোগান ছিল
‘ Write once, Run everywhere’ – এর মানে হল উনিক্স() এর সব প্রোগ্রাম উইন্ডোজে, আবার উইন্ডোজের প্রোগ্রাম মাকিন্টশে চালানো যাবে।
আর এই ভাবনা থেকেই জেমস জেমস গসলিং আউট অব দ্যা বক্স একটা যুগান্তকারী ধারণা নিয়ে আসে। সেটি হলো ভার্চুয়াল মেশিন। অর্থাৎ আমরা একটি কাল্পনিক মেশিনের জন্যে কোড লিখবো যা কিনা কম্পাইল হয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন কোড তৈরি করবে। এবং জাভা ভার্চুয়াল মেশিন সেই অন্তর্বর্তীকালীন কোডকে রান টাইম-এ রিয়েল ডিভাইসের জন্যে প্রয়োজন অনুযায়ী মেশিন কোড তৈরি করবে।
জেমস গসলিং এর এই ভার্চুয়াল মেশিন-এর সল্যুশান ছিল সত্যিকার অর্থেই যুগান্তকারী এবং গ্রিন টিম এর রিলিজ দিতে প্রস্তুত। কিন্তু তখন-ই নতুন ঝামেলার সূচনা হয়, lawyers এসে তাদের জানায় এর নাম Oak দেওয়া যাবে না, কারণ এটি ইতিমধ্যেই Oak Technologies এর ট্রেড মার্ক। সুতরাং নাম পরিবর্তন করতে হবে। শুরু হয় ব্রেইনস্টর্মিং । কিন্তু কোন ভাবেই একটি ভাল নাম নির্বাচন করা যাচ্ছিল না। অনেকেই অনেক ধরণের নাম উপস্থাপন করে, যেমন -–DNA, Silk, Ruby, Yuck, Lyric, Neon, Java ইত্যাদি ইত্যাদি। এর সব গুলো লিগাল ডিপার্টমেন্ট এ সাবমিট করার পর মাত্র Java, DNA , Silk এই তিনটি নাম ফিরে আসে যা কিনা ক্লিন। নাম নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টার মিটিং চলতে থাকে। এর মধ্যে Chris warth প্রপোজ করে Java, কারণ তখন তার হাতে ছিল এক কাপ গরম Peet’s Java (কফি)। শেষ পর্যন্ত নাম ঠিক করা হয় Java কারণ একমাত্র এই নামেই সব থেকে পজিটিভ রিএকশান পাওয়া যাচ্ছিল।
১৯৯৫ সালে সান মাইক্রোসিস্টেমস জাভার প্রথম ভার্সন বাজারে ছাড়ে জাভা ১.০ নামে । এরপর আর অনেক গুলো জাভা ভার্সন বের হয় এবং সর্বশেষ ২০১৪ সালের ১৮ মার্চ জাভা ৮ রিলিজ করা হয় ।
জাভা সংস্করণঃ
জাভা স্ট্যান্ডার্ড এডিশন (জাভা এস ই), জাভা এন্টারপ্রাইজ এডিশন (জাভা ই ই) এবং জাভা মাইক্রো এডিশন ( জাভা এম ই) নামের সর্বমোট তিনটা এডিশন বাজারে আছে ।
জাভা স্ট্যান্ডার্ড এডিশন সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ হিসেবে এবং ডেক্সটপ অ্যাপ্লিকেশান তৈরিতে । এই এডিশন জাভার কিছু নির্দিষ্ট লাইব্রেরি বা প্যাকেজ এবং গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস ব্যবহার করে । এন্টারপ্রাইজ এডিশন মুলত জাভা স্ট্যান্ডার্ড এডিশনের সাথে আরও কিছু লাইব্রেরি ব্যবহার করে বিভিন্ন বড় বড় অ্যাপ্লিকেশান তৈরিতে ব্যবহার করা হয় । জাভা ই ই ওয়েব সার্ভারে জন্য ব্যবহার করা হয় । আর জাভা মাইক্রো এডিশন মূলত এমবেডেড ডিভাইসের (মোবাইল ফোন) জন্য ব্যবহার করা হয়, বিশেষ করে ফিচারড ফোনের জন্য ।
জাভার ভার্সনসমূহঃ
১৯৯৫ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাভার মোট দশটি ভার্সন বাজারে আসে । এর মধ্যে সর্বশেষ ভার্সন আসে ২০১৪ সালের ১৮ মার্চ জাভা এস ই ৮ নামে । নিচে সব গুলো ভার্সন দেয়া হল ।
1. JDK Alpha and Beta (1995)
2. JDK 1.0 (January 23, 1996)
3. JDK 1.1 (February 19, 1997)
4. J2SE 1.2 (December 8, 1998)
5. J2SE 1.3 (May 8, 2000)
6. J2SE 1.4 (February 6, 2002)
7. J2SE 5.0 (September 30, 2004)
8. Java SE 6 (December 11, 2006)
9. Java SE 7 (July 28, 2011)
10. Java SE 8 (March 18, 2014)
বর্তমানে রাকল ফাউন্ডেশন জাভা উন্নতিকল্পে কাজ করে যাচ্ছে............।
/image%2F2599357%2F20171129%2Fob_ea748f_s3.jpg)